অ্যাভাটার-টু-তে রমরমা প্রযুক্তি
কিংবদন্তী পরিচালক জেমস ক্যামেরুনের নতুন ছবি Avatar: The Way of Water মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। ছবির অসাধারণ গল্পের বাঁধনের পাশাপাশি ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চলে এসেছে আলোচনার টেবিলে। কেননা ছবিতে চোখ ধাঁধানো দৃশ্যায়নের পিছনে রয়েছে নানা প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্যুটিংয়ের জন্য অবতারদের মাথায় বসানো হয়েছিল ক্যামেরা। থ্রিডি ফুটেজের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে কম্পিউটারের তৈরি ইমেজারি। ব্যবহৃত হয়েছে একগুচ্ছ নতুন প্রযুক্তি।
গল্প ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে এই ছবিতে সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি। ছবির গ্রাফিক্স ও ভিজুয়াল রিপ্রেজেন্টেশনও দেখার মতো। কেননা থ্রিডি ফুটেজের সঙ্গে কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারির মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এই ফিল্মে। কিংবদন্তী হলিউড পরিচালক তার নতুন ছবিতে ব্যবহার করেছেন এডিআর, থ্রিডি ফিউশন ক্যামেরা, হেড রিগ সিমুল-ক্যামসহ সর্বশেষ প্রযুক্তির অনুষঙ্গ।
সিমুল-ক্যাম
অ্যাভাটর-২ এর সিনেমাটোগ্রাফির আলাদা করে প্রশংসা করতেই হয়। ছবির গ্রাফিক্স এবং ভিজুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন এক কথায় নজর কাড়া। থ্রিডি ফুটেজের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় কম্পিউটারে তৈরি ইমোজারি; আর সেভাবেই তৈরি হয়েছে এই ছবির গ্রাফিক্স। আগে এই প্রযুক্তি দেখা গিয়েছিল রবার্ট জেমেকিস পরিচালিত ছবি বেউলফ-এ। অবতারের দুনিয়াকে আরও চকচকে দেখানোর জন্য রিয়েল টাইমে মোশন ক্যাপচার ব্যবহার হয়েছে এই ছবিতে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ছবির শুটিংয়ের সময় জেমস ক্যামেরুন যখনই কোনও অভিনেতার দিকে ক্যামেরা তার করেছেন তাকে রিয়েল টাইমে মনিটরে অবতার হিসাবেই দেখতে পেয়েছেন।
ডিজিটাল অ্যানিমেশন
নিজেদের ছবিকে সঠিকভাবে দেখানোর জন্য অ্যাভাটার-২ ছবির কলাকুশলীরা এক বছরের বেশি সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এই দলে সামিল ছিলেন খোদ পরিচালক জেমস ক্যামেরুন। প্রত্যেক শটের ছোট ছোট ডিটেইলেও বিশেষ নজর দিয়েছেন তিনি। ছবিতে প্রত্যেকটা পাথর, গাছ এমন কি গাছের পাতার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেন্ডারিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। যা এই ছবির গ্রাফিক্সে আলো ও ছায়ার খেলাকে বাস্তবের মতো করে তুলেছে। এই কাজে ব্যবহার হয়েছে এক হাজার টেরাবাইট হার্ড ড্রাইভ স্টোরেজ।
হেড রিগ
এই ছবিতে শুটিংয়ের সময় অভিনেতারা নিজেদের মাথায় একটি ক্যামেরা জুড়ে নিয়েছিলেন। এই জন্য ব্যবহার হয়েছিলো বিশেষ ক্যামেরা রিগ। মুখের ডিজিটাল শট ক্যাপচার করার জন্য এই রিগ ব্যবহার হয়েছিল। যা মুখের সূক্ষ্ম নড়াচড়াও ক্যাপচার করেছে। কম্পিউটারে ছবি তৈরিতে সাহায্য করেছে।
পারফরম্যান্স ফিচারগুলির রিপ্লেসমেন্ট
ছবির মধ্যে কোথাও নতুন সংলাপ ঢোকানোর প্রয়োজন হলে অথবা সংলাপ স্বচ্ছ করার জন্য অ্যাডিশনাল ডায়ালগ রিপ্লেসমেন্ট বা ADR প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে ছবি নির্মাণে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংলাপ বদল করলে সেই জায়গায় ভিডিওর সঙ্গে লিপ সিঙ্ক হয় না। অন্যদিকে ছবিতে নতুন সংলাপ যুক্ত করতে চাইলে ওয়াইড শট অথবা পিছন থেকে হেড শট নিতে বাধ্য হন পরিচালক। এই সব সমস্যার সমাধান নতুন ছবিতে বিশেষ এই প্রযুক্ত ব্যবহার করেছেন জেমস ক্যামেরুন।
থ্রিডি ফিউশন ক্যামেরা
২০০৩ সালে Ghosts of the Abyss ছবিতেও থ্রিডি ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন জেমস ক্যামেরুন। পরে আরও অনেক পরিচালক এই প্রযুক্ত ব্যবহার করেছেন। তবে 3D ফিউশন প্রযুক্তি এই ছবিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার প্রথম দিনেই সিনেমাটি ৪,২০২টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে তুলে নিয়েছে ৫৩ মিলিয়ন ডলার। এটি মূলত ডমেস্টিক গ্রস ইনকাম এবং চলতি বছরের ডমেস্টিক গ্রস ইনকামের মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। তারপরও রোটেন টমেটো ওয়েব সাইটে সিনেমাটির অ্যাপ্রুভাল ৭৩ শতাংশ। গবেষণা সংস্থা সিনেমা স্কোর দ্য ওয়ে অফ ওয়াটারকে দিয়েছে ‘এ’ গ্রেড।